সব-ধর্মেই ভালো কথা বলে তবে ইসলাম কেন?
হাঁ সকল ধর্মেই মুল্য তার অনুসারীদের কে ভালো ভালো কাজ করতে শিক্ষা দেয়। তাহলে শুধু ইসলামকে মানতে বলা হচ্ছে কেন?
জবাবঃ)
ক. অন্যান্য ধর্মের সাথে ইসলামের মৌলিক পার্থক্য: মুলত প্রতিটি ধর্মেই মানুষকে মন্দ দূর করতে ও ভাল হবার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ইসলামের পরিধি আরো ব্যাপক। ইসলাম আমাদেরকে ন্যায়-পরায়নতা অর্জনের বাস্তবসম্মত পথ ও পদ্ধতি দেখিয়ে দেয় কিভাবে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন থেকে যাবতীয় মন্দ নির্মূল করা যায়।
খ. যেমন ইসলাম আমাদেরকে চুড়ি, ডাকাতি পরিহার করতে বলার সাথে সাথে সে এও বলে দেয় যে, কেমন করে সমাজ থেকে এর প্রবনতা নির্মূল করা যাবে।
১) বড় বড় সব ধর্মেই শিক্ষা দেয় চুড়ি ডাকাতি মন্দ কাজ ইসলামের শিক্ষাও তাই। তাহলে অন্য ধর্মের সাথে ইসলামের পার্থক্য কোথায়? পার্থক্যটা হলো চুরি ডাকাতি মন্দ কাজ এ শিক্ষার সাথে সাথে ইসলাম এমন একটি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণের বাস্তব পদ্ধতি নির্দেশ করে যে সমাজে চুরি ডাকাতির প্রয়োজনই হবে না।
২) চুরির শাস্তি হচ্ছে হাত কেটে ফেলা: চোর প্রমানিত হলে তার হাত কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছে ইসলাম। এটা এইজন্য যে এই হাত কাটার বিধান থাকলে চোর আর সাহস করবে না চুরি করার। বিজ্ঞানময় কুরআন বলছে: "আর যে পুরুষ চুরি করে ও যে নারী চুরি করে, তোমারা তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে তাদের (ডান হাত) কেটে ফেল, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি,
আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, মহা প্রজ্ঞময়। (সুরা মায়েদাহ)[ ৫ঃ৩৮]
৩) ইসলামী বিধি বিধান প্রতিষ্ঠিত হলে তার কল্যানী ফলাফল হাতে হাতে পাওয়া যায়। আমেরিকা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মধ্যে উন্নত তম। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে তার আছে সবোর্চ্চ রেকর্ড। এই আমেরিকায় যদি ইসলামের সব বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। একদিকে প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যাক্তি রীতিমতো যাকাত আদায় করছে অপরদিকে নারী বা পুরুষ চোর প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হাত কেটে ফেলা।
তাহলে আমেরিকায় চুরি, ডাকাতির বর্তমান প্রবণতা বাড়বে, না একই রকম থাকবে, নাকি একেবারে কমে যাবে? সঙ্গত ভাবেই তা কমে যাবে। তদুপরি এই ধরনের কঠিন আইন থাকলে অনেক স্বভাবের চোরও নিজেকে এই ভয়ংকর পরিণতি থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করবে। অর্থাৎ চুরি ডাকাতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। একথা মানতেই হবে যে, পৃথিবী ব্যাপী চুরি ডাকাতির বর্তমান যে হার তাতে হাত কাটার আইন চালু হলে লক্ষ লক্ষ লোক এমন দেখা যাবে যাদের হাত কাটা। বিষয়টা হলো ভয় যে মুহুর্তে এই আইন ঘোষনা করা হবে তার পরের মুহূর্ত থেকেই এ প্রবণতা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কমে আসতে থাকবে। পেশাদার চোরও এ পথে পা ফেলার আগে একবার ভেবে নেবে ধরা পড়লে তার পরিনতি কি হবে। শাস্তির ভয়াবহতাই চোরের ইচ্ছাকে দমন করার জন্য যথেষ্ট। তখন নিতান্ত দুরান্তা ও দুর্ভাগা ছাড়া এ কাজ আর কেউ করবে না সামান্য কয়েকটি লোকের হয়তো হাত কাটা যাবে কিন্তু কোটি কোটি মানুষ পাবে নিরাপত্তা,
শান্তি এবং সর্বস্ব হারাবার থেকে মুক্তি। ইসলামী বিধান এই রকম বাস্তবধর্মী এবং প্রত্যক্ষভাবে ফলদায়ক। কারণ এটা মহান স্রষ্টার বিধান।
৪) মানুষের অভাব দূর করতে ইসলাম যাকাতের বিধান দিয়েছে। ইসলাম বিধান দিয়েছে এমন
ব্যাক্তির জন্য যাকাত বাধ্যতামূলক যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্ধৃও থাকে। অর্থাৎ বাৎসরিক আয় ব্যয়ের পরে ৮৫ গ্ৰাম সোনা বা এর সম মুল্যের নগদ অর্থ অথবা আনন্য মাল পত্র উদ্ধৃও থাকবে তার ২.৫% বা শতকরা আড়াই টাকা প্রতি চন্দ্র বৎসরের শেষে তাকে ( ৮ শ্রেণীর অভাবগ্রস্ত লোকদের দিতে হবে)। পৃথিবীর প্রতিটি সম্পদশালী ব্যাক্তি যদি সত্যি সত্যিই এই যাকাত আদায় করে তাহলে দারিদ্রতা বলতে পৃথিবীতে কিছু থাকবে না। তখন ভিক্ষা দিতেও একজন ভিখারীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। (এই হলো ইসলামী অর্থনীতির মাত্র একটি কার্যক্রম। শুধু মাত্র এই যাকাত ব্যবস্থাটুকু কার্যকর হলে হাত--পাতার লোক খুঁজতে হবে।)
গ:) মানবীয় সমস্যায় ইসলামের সমাধানঃ
বাস্তবমুখী ইসলাম মানুষের জন্য সবোশ্রেষ্ঠ জীবনযাপন পদ্ধতি। কেননা এর শিক্ষা অকার্যকর নয় বরং মানুষের যাবতীয় সমস্যার নগদ ও বাস্তব সমাধান। স্বতন্ত্র ব্যাক্তি ও সামাজিক সমস্যা, উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামে প্রত্যক্ষ
ফলাফল অর্জন করে। ইসলাম একারণেও শ্রেষ্ঠতম জীবন পদ্ধতি যে, এটা বাস্তব সম্মত বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন ধর্ম। কোনো জাতি অথবা জাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন