ইসলামে আসলে কি নেই? এমন কোন শাখা নেই যা ইসলামে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইসলামে কি আছে তা লিখতে লিখতে কলমের কালি শেষ হয়ে যাবে কিন্তু লেখা শেষ হবে না। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যা যা দরকার সবই ইসলামে রয়েছে। এজন্যই ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে কি যে নেই ইসলামে এটা খুঁজে বের করা দুষ্কর।
ইসলামে আছে-- আল্লাহর একত্ববাদ, পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, মহাকাশ-বিজ্ঞান, সমুদ্র বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, চিকিৎসা-বিজ্ঞান,
সমাজনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতির, ন্যায়নিষ্ঠের বিচার ব্যবস্থা, সমরনীতি, গোরবদীপ্ত জিহাদ ফি সাবিলিল্লহ, মুজাহিদের সুমহান মর্যাদা, শহিদগণের সুমহান মর্যাদা, শহিদ হলে সরাসরি জান্নাতের গ্যারান্টি, সুন্দর চরিত্র গঠন, হালাল-হারামের বিধান, সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ, নারীর ন্যায্য অধিকার, দাম্পত্য জীবন ও পরিবার ব্যবস্থাপনা,
যৌন-শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ইসলামে আছে ব্যাক্তি স্বাধীনতা, ইত্যাদি ইত্যাদি।
ইসলামের মূল উৎস কি?
ইসলামের মূল উৎস দুটি। কিতাবুল্লহ তথা আল্লাহ কিতাব-আল কুরআন ও সুন্নাতে নববী তথা- নবী করীম হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) এর ছহীহ- হাদিস। এব্যাপারে রাসূলুল্লাহ বিদায় হজের ভাষণে বলে গেছেন- ("আমি তোমাদের মাঝে দুটো বিষয় বা জিনিস রেখে গেলাম। তোমারা যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) আরেকটি হলো আমার সুন্নাহ (আদর্শ) হাদিস)"২৫
ইসলামে মূল স্তম্ভ কয়টি ও কী কী?
ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি। হাদিসে এসেছে,
"রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ ছাড়াকোন (সত্য) ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল এর ঘোষণা করো, সালাত কায়েম করো, যাকাত আদায় করা, হজ্জ পালন করা ও রমজানের সিয়াম পালন করা।
মুসলিম কে?
এক-কথায় ইসলামের পরিপূর্ণ ও একনিষ্ঠ অনুসারীকে মুসলিম বলে। আল্লাহর কাছে যে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দেয়। আত্মসমর্পণ করে, আনুগত্য করে, এককভাবে শুধু আল্লাহ ইবাদত করে, সমস্ত শিরক থেকে মুক্ত হয়, শিরককারীদের কাছ থেকে নিজেকে মুক্ত হয় এবং তার জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়, প্রকৃতপক্ষে সেই মুসলিম, শান্তির পথযাত্রী।
মুশরিক কে?
যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক/অংশীদার করে সে মুশরিক। অর্থাৎ সে আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কারও ইবাদত করল, অন্য কারও জন্য কোরবানী (জবেহ) মান্নত, ছালাত,ছিয়াম ইত্যাদি পালন করল সে মুশরিক। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বাদ দিয়ে অন্য কারও বা অন্য কোনো কিছুর সন্তুষ্টির জন্য কোন ইবাদত করলে সেও মুশরিক।সে জাহান্নামের (নরকের) পথিক।
কাফির কে?
কাফির [Kafir] একটি আরবি শব্দ, যা আরবি কুফর[Kufr] ধাতু থেকে আগত, যার শাব্দিক অর্থ হলো--ঢেকে রাখা, লুকিয়ে রাখা, এবং এর ব্যবহারিক অর্থ হলো অবাধ্যতা, অস্বীকার করা,
অকৃতজ্ঞতা সাধারণ 'অবিশ্বাসী' হিসেবে অনুবাদ করা হয়। যে ব্যক্তি কুফরী কাজে লিপ্ত হয় তাকে কাফির বলে। বিশ্বের সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর অস্তিত্ব ও একাত্বের প্রমাণ বহন করছে। কাফির ব্যাক্তি এ মহাসত্যকে দেখেও গোপন করে, অস্বীকার করে, অবিশ্বাস করে। মানুষ সবসময় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে ডুবে আছে। আগুন, পানি,আলো, বাতাস, সবকিছু আল্লাহর দান। মানুষ মানুষের হাত, পা, চোখ, কান, মস্তিষ্ক, জ্ঞান-বুদ্ধি, শক্তি সামর্থ, সবই আল্লাহর দান।এরপর ও যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও তাঁর দ্বীন ইসলামকে অস্বীকার করে সে চরম অকৃতজ্ঞ, অবাধ্য ও কাফির ( অবিশ্বাসী)
ঈমান কী?
ঈমান শব্দের শাব্দিক অর্থ "বিশ্বাস স্থাপন করা।" পারিভাষিক অর্থ আল্লাহ মালাইকা (ফেরেশতা) কিতাব সমূহ, নবী রাসুলগণ, আখিরাত বা পরকাল, তাকদীর বা ভাগ্যের ভালো মন্দ---এ ছয়টি মৌলিক বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমান বলে। তাসদীক বিল যিনান বা অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, ইকরার বিল লিসান বা মৌখিক স্বীকৃতি এবং আমাল বিল আরকান বা বাস্তবে আমলে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমানের দাবি।
ঈমানের রুকন কয়টি ও কি কি?
ঈমানের রুকন বা স্তম্ভ ছয়টি। যথা:
১:) এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা অর্থাৎ
তাঁকেই ইলাহ (উপাস্য) হিসেবে মেনে নেওয়া।
২. মালাইকাদের (ফেরেশতাগণের ) প্রতি ঈমান আনা।
৩. আসমানী কিতাব সমূহের উপর ঈমান আনা।
৪. নবী-রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনা।
৫. আখিরাতে (পরকালের) প্রতি ঈমান আনা।
৬.( তাকদীরের ) ভাগ্যের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।
"রাসূল তার রব হতে তার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে
তা বিশ্বাস করেন এবং মুমিনগণও (বিশ্বাস করে); তারা সবাই আল্লাহকে, তার ফেরেশতাগণকে, তার গ্ৰন্থসমূহকে এবং তার রাসূলগণকে বিশ্বাস করে; (তারা বলে) আমরা তার রাসূলগণের মধ্যে কাউকে পার্থক্য করিনা এবং তারা আরো বলে, আমরা শুনলাম এবং স্বীকার করলাম;হে আমাদের রব ! আমরা আপনারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই দিকে শেষ প্রত্যাবর্তন।"সূরা বাকারার ২:২৮৫]
এছাড়াও: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "ঈমান হচ্ছে আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি, তার কিতাব সমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন