My TopTen Media
Translate
শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৯
জন্ম নিবন্ধন কী ? কিভাবে করবেন জন্ম নিবন্ধন রেজিস্টার
জেনে নিন দলিলে বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের পূর্ণরূপ
অনেকেই এই দলিলপত্রের বিভিন্ন ভাষা বা শব্দ বুঝি না। যার ফলে নানা বিব্রান্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আইনজীবি বা মুন্সী অথবা বিগ্গ মানুষদের শরনাপন্ন হতে হয়। আর নয় দৌড়াদৌড়ি এবার এখনই আপনি ও জেনে নিন দলিলে বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের পূর্ণরূপ;
সাং = সাকিন, সাকিম। সাকিন বা সাকিম শব্দের অর্থ ঠিকানা, বাসস্থান।
গং = অন্যরা, সমূহ। অমুক [ব্যক্তিনাম] ও অন্যান্য বা তার সহযোগীগণ।
দং = দরুন, বাবদ, দখল।
মোং = মোকাম। এর অর্থ আবাস, বাসস্থান হলেও মূলত বাণিজ্য স্থান।
কিঃ = কিস্তি। কিন্তু শব্দটি দফা, বার, ক্ষেপ এই অর্থেও ব্যবহূত হয়।
এজমালি/ইজমালি = যৌথ, সংযুক্ত, বহুজনের একত্রে।যেমন: এজমালি সম্পত্তি বলতে যৌথ মালিকাধীন সম্পত্তিকে বোঝায়।
কিত্তা/ কিতা = আববি ‘ক্বত্বহ’ শব্দজাত। এর অর্থ অংশ, জমির ভাগ, পদ্ধতি।
ছানি = আরবি শব্দ, অর্থ দ্বিতীয়বার। পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা। যেমন: ছানি মামলা।
নিম = ফারসি শব্দ। এর অর্থ অল্প, অর্ধেক, অধস্তন বা অধীন ইত্যাদি।
ছোলেনামা = মীমাংসা, আপোষ/আপস। ছোলেনামা মানে আপস-মীমাংসাপত্র।
জঃ = জমা। সাধারণ অর্থে ‘জমা’ বলতে সঞ্চিত, রাশীকৃত।
নং = নম্বর বা সংখ্যা অর্থে বোঝানো হয়।
পঃ = পঞ্চম বা পাঁচের স্থানীয় ভাষ্য।
পোঃ = পোস্ট অফিস বা ডাকঘর বোঝানো হয়।
মহঃ = মহকুমা। ব্রিটিশ আমলে জেলার একটি প্রশাসনিক অংশকেই মহকুমা বলা হতো।
মুসাবিদা = খসড়া তৈরি করা। মুসাবিদাকারক মানে যিনি দলিল লেখেন।
হিঃ = হিসাব শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ
চৌঃ = চৌহদ্দি। চৌহদ্দি শব্দের অর্থ হচ্ছে চারধারের সীমানা।
তঃ/তপঃ = তফসিল, তহশিল।
তামাদি = ফারসি শব্দ। এর অর্থ নির্ধারিত সময়সীমা।
বিতং = বিস্তারিত বিবরণ, কৈফিয়ত, বৃত্তাত অর্থে ব্যবহূত হয়।
মাং/ মাঃ = মারফত। মারফত মানে মাধ্যম, অর্থাৎ যার হাত দিয়ে বা মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়।
সহঃ = সহকারী, যিনি কাজে সহযোগিতা করেন।
সুদিখত = একশ্রেণীর বন্ধকী দলিল।
তমঃ = তমসুক। আরবি শব্দজাত, যার অর্থ দলিল, ঋণ-স্বীকারপত্র বা খত। অর্থাৎ কর্জ গ্রহীতা যে লিখিত পত্র, বিশেষত সরকারি স্ট্যাম্প বা কাগজমূলে কর্জদাতার কাছ থেকে টাকা ধার নেয়। বন্ধকী তমসুক মানে হলো বন্ধকনামা বা বন্ধকী বা বন্ধকী খত।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন করেন।
হলফ = সত্য বলার জন্য যে শপথ করা হয়। হলফকারী মানে যিনি সত্যায়ন
খারিজ = সাধারণ অর্থে বাতিল করা হয়েছে এমন বোঝায়। ভূমি আইনে একজনের নাম থেকে অন্যজনের নামে জমির মালিকানা পরিবর্তন করে নেওয়াকে বোঝায়।
মৌরাশি: পুরুষানুক্রমে কোনো ভূমি ভোগ দখল করাকে মৌরাশি বলে।
বায়া (Vender): বিক্রেতা, বিক্রেতার সম্পাদিত দলিলকে বলে বায়া দলিল।
তফসিল: কোনা জমি যে মৌজায় অবস্থিত সে মৌজার নাম, জে. এল. নং, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির শ্রেণী, পরিমাণ, জমির চৌহদ্দি বর্ণনা ইত্যাদি পরিচিতি সম্বলিত বিবরণকে ঐ জমির তফসিল বলে।
মিনাহ (Deduction): কম, কমতি, জমি সিকস্তি হলে তার কর আদায় স্থগিত করাকে মিনাহ বলে।
খতিয়ান: খতিয়ান হলো দখল স্বত্বের প্রামাণ্য দলিল। এক বা একাধিক দাগের সম্পূর্ণ বা আংশিক ভূমি নিয়ে এক বা একাধিক ব্যক্তির নামে সরকার বা রাজস্ব অফিসার কর্তৃক যে ভূমি স্বত্ব প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। প্রতি খতিয়ানের একটি পৃথক পরিচিতি নম্বর থাকে। খতিয়ানকে “রেকর্ড অব রাইটস” বা “স্বত্বলিপি” বলা হয়। খতিয়ান হচ্ছে নিখুঁত মালিকানা স্বত্ব ও দখলী স্বত্বের প্রমাণ্য দলিল। খতিয়ানে তৌজী নম্বর, জে. এল. নম্বর, স্বত্বের বিবরণ, মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা থাকে।খতিয়ানের অপর পৃষ্ঠায় দাগ নম্বর, প্রত্যেক দাগের উত্তর সীমা (উত্তর দাগ), ভূমির শ্রেণী দখলকারের নাম, ভূমির পরিমাণ, হিস্যা, হিস্যা মতে পরিমাণ লেখা থাকে। উপযুক্ত আদালত কর্তৃক ভুল প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত খতিয়ান নির্ভূল হিসাবে গণ্য হতে থাকে।
সংগ্রহ: ইন্টারনেট।
কোথায় এবং কিভাবে পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করবেন?
১. বিবাহ বিচ্ছেদ
২. দাম্পত্য সর্ম্পক পুনরুদ্ধার
৩. মোহরানা
৪. ভরণপোষণ
৫. সন্তানের অভিভাকত্ব ও তত্ত্বাবধান
কোন আদালতে মামলা দায়ের করবেন?
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৬ ধারা অনুযায়ী;
১. নালিশের কারণটি যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে উদ্ভূত হয়েছে
২. যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের মধ্যে মামলার পক্ষগণ বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ একসঙ্গে বসবাস করেছিলেন
তবে শর্ত হচ্ছে যে, বিবাহ বিচ্ছেদ, দেনমোহর অথবা ভরণপোষণের মামলার ক্ষেত্রে যে এলাকায় স্ত্রী সাধারণত বসবাস করছে সেই এলাকার আদালতেও মামলা করা যাবে৷
মামলার আরজিতে কি কি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে?
আরজিতে বিরোধ সম্মন্ধীয় বিষয়ের বিস্তারিত তথ্যসহ একটি তফসিল দিবে হবে যেখানে আরজির সমর্থনে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক সাক্ষীগনের সাম ও ঠিকানা অর্ন্তভূক্ত থাকবে৷
তবে শর্ত থাকে যে,বাদী মামলা প্রমানের প্রয়োজনে আদালতের অনুমতিক্রমে মামলার যে কোন স্তরে যে কোন সাক্ষী ডাকতে পারে যদি আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত সাক্ষ্য নেয়া উপযুক্ত বলে মনে করেন৷
এছাড়া মামলার আরজিতে যে বিষয়গুলির উল্লেখ থাকতে হবে-
১. যে আদালতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে সে আদালতের নাম:
২. বাদীর নাম, বর্ণণা ও বাসস্থান
৩. বিবাদীর নাম, বর্ণণা ও বাসস্থান
৪. বাদী বা বিবাদী নাবালক অথবা অপ্রকৃতিস্থ হলে সে সর্ম্পকিত বর্ণণা
৫. নালিশের কারণ সর্ম্পকিত তথ্য সহ, যে স্থানে ও যে তারিখে কারণের উদ্ভব হয়েছিলো তার বিবরণ৷
৬. সংশ্লিষ্ট আদালতের যে মামলাটি পরিচালনার এখতিয়ার আছে সে সর্ম্পকিত তথ্য৷
৭. বাদীর প্রার্থিত প্রতিকার৷
৮. বাদী তার দাবীর সমর্থনে যদি কোন দলিলের উপর নির্ভর করে এবং দলিলটি যদি তার দখলে থাকে তবে আরজি উত্থাপনের সময় দলিলটি আদালতে পেশ করতে হবে৷ দলিলটির অবিকল ফটোকৃত প্রতিলিপি আরজির সারথ নথিভূক্তির জন্য দিতে হবে৷
৯. বাদী তার দাবীর সমর্থনে এমন কোন দলিলের উপর নির্ভর করে এবং দলিলটি যদি তার দখলে না থাকে সেক্ষেত্রে দলিলটি কার দখলে বা আয়ত্বাধীনে আছে সে বিষয়টি উল্লেখকরত আরজি দাখিল করতে হবে৷
১০. মামলার বিবাদীগনের উপর জারীর জন্য বিবাদীগণের সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক তপসিলসহ আরজির সত্যায়িত প্রতিলিপি এবং দলিলের তালিকা দ্বিগুণ পরিমাণ আরজির সাথে থাকবে৷
যে সকল কারনে আরজি অগ্রাহ্য বা নাকচ হতে পারে
১. পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৬ এর ৭ উপধারা অনুযায়ী যেক্ষেত্রে আরজির সাথে তপসিল দেয়া হয়নি৷
২. যেক্ষেত্রে সমন জারীর খরচ এবং নোটিশের জন্য পোস্টাল খরচ পরিশোধ করা হয়নি৷
৩. যেক্ষেত্রে ২২ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত কোর্ট ফি দেয়া হয়নি৷
রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচার
মামলা দায়েরর পর বিবাদী পক্ষকে নোটিশ/সমন প্রদান, বিবাদী পক্ষের জবাব দেবার পর মামলাটি বিচারের জন্য ধার্য্য হয়। পারিবারিক আদালত উপযুক্ত মনে করলে এই অধ্যাদেশের অধীনে মামলার সম্পূর্ণ বিচার কার্যক্রম বা যে কোন অংশে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত করতে পারেন৷
যে বিষয়সমূহ নিয়ে পারিবারিক আদালতে বিচারকার্য পরিচালিত হয় সেই বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবে ভিন্ন প্রকৃতির এবং সেই ভিন্ন প্রকৃতির কারণে পারিবারিক আদালতের বিচার ভিন্ন অবস্থায় হতে পারে৷ স্বামীর সাথে স্ত্রী, স্ত্রীর সাথে স্বামীর বা সন্তানের সাথে পিতামাতার বিরোধ অনেক সময় জনসমক্ষে প্রকাশ করা বিব্রতকর হয়ে পড়ে৷ এ সমস্ত কারণে আইন এই মামলা রুদ্ধদ্বার কক্ষে বিচারের ব্যবস্থা রেখেছে৷
আপোস বা পুনর্মিলনের জন্য আদালত খাস কামরায় উভয় পক্ষকে বা যে-কোনো পক্ষকে ডেকে চেষ্টা করতে পারেন অথবা আদালত কোনো মহিলা সাক্ষীর সাক্ষ্য খাস কামরায় গ্রহণ করতে পারেন৷ আদালত নিজের ইচ্ছায় রুদ্ধদ্বার কক্ষে বা খাস কামরায় বিচারানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে পারেন না৷ এজন্য আদালতকে উভয় পক্ষ কর্তৃক অনুরোধ করতে হবে৷ পক্ষগণ আদালতের কাছে আবেদন না করলে আদালত খাস কামরায় সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেন না৷
বিচার সমাপ্তি
সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করার পর রায় ঘোষণার পূর্বে পারিবারিক আদালত পক্ষগণের মধ্যে শেষ পর্যায়েও আপোষ মীমাংসার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে৷ যদি অনুরূপ আপোষ বা পুনর্মিলন সম্ভবপর না হয়, তা হলে আদালত তখনই অথবা ভবিষ্যতে অনধিক সাত দিনের মধ্যে যে-কোনো দিনে রায় ঘোষণা করবেন এবং ডিক্রি প্রদান করবেন৷
আপোষমূলক ডিক্রি
পারিবারিক আদালতে মামলা নিষ্পত্তির দুটি পদ্ধতি আছে৷ প্রথমটি হচ্ছে আপোস, দ্বিতীয়টি বিচার৷ আপোস বা মীমাংসার মাধ্যমে কোনো বিরোধের সমাপ্তি হলে উভয়পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত আরোষ মীমাংসার আলোকে আদালত মামলার ডিক্রি বা সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন৷
রায় লিপিবদ্ধকরণ
পারিবারিক আদালতের রায় বিচারক নিজেই লিখবেন৷ তার লেখার কোনো অসুবিধা হলে তিনি ডিক্টেশন দিবেন এবং অন্য কেউ লিখে দিবে৷ অতঃপর তিনি সেটি প্রকাশ্য আদালতে ঘোষণা করবেন এবং তারিখসহ স্বাক্ষর করবেন৷ রায় আদালতের ভাষায় লিখতে হবে৷ আপিলযোগ্য সকল রায় ও আদেশসমূহের ক্ষেত্রে রায় লিপিবদ্ধকরণে পারিবারিক আদালতের বিচারের বিষয়বস্তু, সিদ্ধান্ত ও তার যুক্তি এবং কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে৷
আপিল
পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে আপিল করা যাবে৷ জেলা জজ আদালত দেওয়ানি আদালত বিধায় দেওয়ানি কার্যবিধি আইন এই আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে৷
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না৷
১. স্বামী যদি স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তর করেন বা উক্ত সম্পত্তির ওপর স্ত্রীর আইন সম্মত অধিকার প্রয়োগে বাধা দেন৷ এই অভিযোগে স্ত্রী বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করলে এই কারণে ব্যতীত অন্য কোনো কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায় বা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না৷
২. মোহরানার টাকা ৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে না হলে আপিল চলবে না৷ আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতের রায়, ডিক্রি বা আদেশ প্রদানের সময় হতে এ সব কপি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে দায়ের করতে হবে৷ তবে জেলা জজ যথেষ্ট কারণের জন্য উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারেন৷
সংগ্রহ: ইন্টারনেট।
বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৯
ইসলামে কী আছে?
ইসলামে আসলে কি নেই? এমন কোন শাখা নেই যা ইসলামে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইসলামে কি আছে তা লিখতে লিখতে কলমের কালি শেষ হয়ে যাবে কিন্তু লেখা শেষ হবে না। মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যা যা দরকার সবই ইসলামে রয়েছে। এজন্যই ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। প্রকৃতপক্ষে কি যে নেই ইসলামে এটা খুঁজে বের করা দুষ্কর।
ইসলামে আছে-- আল্লাহর একত্ববাদ, পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, মহাকাশ-বিজ্ঞান, সমুদ্র বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, চিকিৎসা-বিজ্ঞান,
সমাজনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতির, ন্যায়নিষ্ঠের বিচার ব্যবস্থা, সমরনীতি, গোরবদীপ্ত জিহাদ ফি সাবিলিল্লহ, মুজাহিদের সুমহান মর্যাদা, শহিদগণের সুমহান মর্যাদা, শহিদ হলে সরাসরি জান্নাতের গ্যারান্টি, সুন্দর চরিত্র গঠন, হালাল-হারামের বিধান, সৎকাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ, নারীর ন্যায্য অধিকার, দাম্পত্য জীবন ও পরিবার ব্যবস্থাপনা,
যৌন-শিক্ষা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ইসলামে আছে ব্যাক্তি স্বাধীনতা, ইত্যাদি ইত্যাদি।
ইসলামের মূল উৎস কি?
ইসলামের মূল উৎস দুটি। কিতাবুল্লহ তথা আল্লাহ কিতাব-আল কুরআন ও সুন্নাতে নববী তথা- নবী করীম হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) এর ছহীহ- হাদিস। এব্যাপারে রাসূলুল্লাহ বিদায় হজের ভাষণে বলে গেছেন- ("আমি তোমাদের মাঝে দুটো বিষয় বা জিনিস রেখে গেলাম। তোমারা যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) আরেকটি হলো আমার সুন্নাহ (আদর্শ) হাদিস)"২৫
ইসলামে মূল স্তম্ভ কয়টি ও কী কী?
ইসলামের মূল স্তম্ভ পাঁচটি। হাদিসে এসেছে,
"রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ ছাড়াকোন (সত্য) ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল এর ঘোষণা করো, সালাত কায়েম করো, যাকাত আদায় করা, হজ্জ পালন করা ও রমজানের সিয়াম পালন করা।
মুসলিম কে?
এক-কথায় ইসলামের পরিপূর্ণ ও একনিষ্ঠ অনুসারীকে মুসলিম বলে। আল্লাহর কাছে যে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দেয়। আত্মসমর্পণ করে, আনুগত্য করে, এককভাবে শুধু আল্লাহ ইবাদত করে, সমস্ত শিরক থেকে মুক্ত হয়, শিরককারীদের কাছ থেকে নিজেকে মুক্ত হয় এবং তার জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মেনে নেয়, প্রকৃতপক্ষে সেই মুসলিম, শান্তির পথযাত্রী।
মুশরিক কে?
যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক/অংশীদার করে সে মুশরিক। অর্থাৎ সে আল্লাহ ছাড়া বা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কারও ইবাদত করল, অন্য কারও জন্য কোরবানী (জবেহ) মান্নত, ছালাত,ছিয়াম ইত্যাদি পালন করল সে মুশরিক। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বাদ দিয়ে অন্য কারও বা অন্য কোনো কিছুর সন্তুষ্টির জন্য কোন ইবাদত করলে সেও মুশরিক।সে জাহান্নামের (নরকের) পথিক।
কাফির কে?
কাফির [Kafir] একটি আরবি শব্দ, যা আরবি কুফর[Kufr] ধাতু থেকে আগত, যার শাব্দিক অর্থ হলো--ঢেকে রাখা, লুকিয়ে রাখা, এবং এর ব্যবহারিক অর্থ হলো অবাধ্যতা, অস্বীকার করা,
অকৃতজ্ঞতা সাধারণ 'অবিশ্বাসী' হিসেবে অনুবাদ করা হয়। যে ব্যক্তি কুফরী কাজে লিপ্ত হয় তাকে কাফির বলে। বিশ্বের সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর অস্তিত্ব ও একাত্বের প্রমাণ বহন করছে। কাফির ব্যাক্তি এ মহাসত্যকে দেখেও গোপন করে, অস্বীকার করে, অবিশ্বাস করে। মানুষ সবসময় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে ডুবে আছে। আগুন, পানি,আলো, বাতাস, সবকিছু আল্লাহর দান। মানুষ মানুষের হাত, পা, চোখ, কান, মস্তিষ্ক, জ্ঞান-বুদ্ধি, শক্তি সামর্থ, সবই আল্লাহর দান।এরপর ও যে ব্যক্তি আল্লাহকে ও তাঁর দ্বীন ইসলামকে অস্বীকার করে সে চরম অকৃতজ্ঞ, অবাধ্য ও কাফির ( অবিশ্বাসী)
ঈমান কী?
ঈমান শব্দের শাব্দিক অর্থ "বিশ্বাস স্থাপন করা।" পারিভাষিক অর্থ আল্লাহ মালাইকা (ফেরেশতা) কিতাব সমূহ, নবী রাসুলগণ, আখিরাত বা পরকাল, তাকদীর বা ভাগ্যের ভালো মন্দ---এ ছয়টি মৌলিক বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমান বলে। তাসদীক বিল যিনান বা অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, ইকরার বিল লিসান বা মৌখিক স্বীকৃতি এবং আমাল বিল আরকান বা বাস্তবে আমলে পরিণত করাই হচ্ছে ঈমানের দাবি।
ঈমানের রুকন কয়টি ও কি কি?
ঈমানের রুকন বা স্তম্ভ ছয়টি। যথা:
১:) এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা অর্থাৎ
তাঁকেই ইলাহ (উপাস্য) হিসেবে মেনে নেওয়া।
২. মালাইকাদের (ফেরেশতাগণের ) প্রতি ঈমান আনা।
৩. আসমানী কিতাব সমূহের উপর ঈমান আনা।
৪. নবী-রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনা।
৫. আখিরাতে (পরকালের) প্রতি ঈমান আনা।
৬.( তাকদীরের ) ভাগ্যের ভাল-মন্দের উপর ঈমান আনা।
"রাসূল তার রব হতে তার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে
তা বিশ্বাস করেন এবং মুমিনগণও (বিশ্বাস করে); তারা সবাই আল্লাহকে, তার ফেরেশতাগণকে, তার গ্ৰন্থসমূহকে এবং তার রাসূলগণকে বিশ্বাস করে; (তারা বলে) আমরা তার রাসূলগণের মধ্যে কাউকে পার্থক্য করিনা এবং তারা আরো বলে, আমরা শুনলাম এবং স্বীকার করলাম;হে আমাদের রব ! আমরা আপনারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই দিকে শেষ প্রত্যাবর্তন।"সূরা বাকারার ২:২৮৫]
এছাড়াও: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "ঈমান হচ্ছে আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেশতাগণের প্রতি, তার কিতাব সমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৯
পৃথিবীতে এত ধর্ম থাকতে শুধু ইসলামকেই মানবো কেনো?
সব-ধর্মেই ভালো কথা বলে তবে ইসলাম কেন?
হাঁ সকল ধর্মেই মুল্য তার অনুসারীদের কে ভালো ভালো কাজ করতে শিক্ষা দেয়। তাহলে শুধু ইসলামকে মানতে বলা হচ্ছে কেন?
জবাবঃ)
ক. অন্যান্য ধর্মের সাথে ইসলামের মৌলিক পার্থক্য: মুলত প্রতিটি ধর্মেই মানুষকে মন্দ দূর করতে ও ভাল হবার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ইসলামের পরিধি আরো ব্যাপক। ইসলাম আমাদেরকে ন্যায়-পরায়নতা অর্জনের বাস্তবসম্মত পথ ও পদ্ধতি দেখিয়ে দেয় কিভাবে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন থেকে যাবতীয় মন্দ নির্মূল করা যায়।
খ. যেমন ইসলাম আমাদেরকে চুড়ি, ডাকাতি পরিহার করতে বলার সাথে সাথে সে এও বলে দেয় যে, কেমন করে সমাজ থেকে এর প্রবনতা নির্মূল করা যাবে।
১) বড় বড় সব ধর্মেই শিক্ষা দেয় চুড়ি ডাকাতি মন্দ কাজ ইসলামের শিক্ষাও তাই। তাহলে অন্য ধর্মের সাথে ইসলামের পার্থক্য কোথায়? পার্থক্যটা হলো চুরি ডাকাতি মন্দ কাজ এ শিক্ষার সাথে সাথে ইসলাম এমন একটি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণের বাস্তব পদ্ধতি নির্দেশ করে যে সমাজে চুরি ডাকাতির প্রয়োজনই হবে না।
২) চুরির শাস্তি হচ্ছে হাত কেটে ফেলা: চোর প্রমানিত হলে তার হাত কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছে ইসলাম। এটা এইজন্য যে এই হাত কাটার বিধান থাকলে চোর আর সাহস করবে না চুরি করার। বিজ্ঞানময় কুরআন বলছে: "আর যে পুরুষ চুরি করে ও যে নারী চুরি করে, তোমারা তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে তাদের (ডান হাত) কেটে ফেল, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি,
আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, মহা প্রজ্ঞময়। (সুরা মায়েদাহ)[ ৫ঃ৩৮]
৩) ইসলামী বিধি বিধান প্রতিষ্ঠিত হলে তার কল্যানী ফলাফল হাতে হাতে পাওয়া যায়। আমেরিকা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর মধ্যে উন্নত তম। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে তার আছে সবোর্চ্চ রেকর্ড। এই আমেরিকায় যদি ইসলামের সব বিধান প্রতিষ্ঠিত হয়। একদিকে প্রতিটি সামর্থ্যবান ব্যাক্তি রীতিমতো যাকাত আদায় করছে অপরদিকে নারী বা পুরুষ চোর প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হাত কেটে ফেলা।
তাহলে আমেরিকায় চুরি, ডাকাতির বর্তমান প্রবণতা বাড়বে, না একই রকম থাকবে, নাকি একেবারে কমে যাবে? সঙ্গত ভাবেই তা কমে যাবে। তদুপরি এই ধরনের কঠিন আইন থাকলে অনেক স্বভাবের চোরও নিজেকে এই ভয়ংকর পরিণতি থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করবে। অর্থাৎ চুরি ডাকাতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। একথা মানতেই হবে যে, পৃথিবী ব্যাপী চুরি ডাকাতির বর্তমান যে হার তাতে হাত কাটার আইন চালু হলে লক্ষ লক্ষ লোক এমন দেখা যাবে যাদের হাত কাটা। বিষয়টা হলো ভয় যে মুহুর্তে এই আইন ঘোষনা করা হবে তার পরের মুহূর্ত থেকেই এ প্রবণতা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কমে আসতে থাকবে। পেশাদার চোরও এ পথে পা ফেলার আগে একবার ভেবে নেবে ধরা পড়লে তার পরিনতি কি হবে। শাস্তির ভয়াবহতাই চোরের ইচ্ছাকে দমন করার জন্য যথেষ্ট। তখন নিতান্ত দুরান্তা ও দুর্ভাগা ছাড়া এ কাজ আর কেউ করবে না সামান্য কয়েকটি লোকের হয়তো হাত কাটা যাবে কিন্তু কোটি কোটি মানুষ পাবে নিরাপত্তা,
শান্তি এবং সর্বস্ব হারাবার থেকে মুক্তি। ইসলামী বিধান এই রকম বাস্তবধর্মী এবং প্রত্যক্ষভাবে ফলদায়ক। কারণ এটা মহান স্রষ্টার বিধান।
৪) মানুষের অভাব দূর করতে ইসলাম যাকাতের বিধান দিয়েছে। ইসলাম বিধান দিয়েছে এমন
ব্যাক্তির জন্য যাকাত বাধ্যতামূলক যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ উদ্ধৃও থাকে। অর্থাৎ বাৎসরিক আয় ব্যয়ের পরে ৮৫ গ্ৰাম সোনা বা এর সম মুল্যের নগদ অর্থ অথবা আনন্য মাল পত্র উদ্ধৃও থাকবে তার ২.৫% বা শতকরা আড়াই টাকা প্রতি চন্দ্র বৎসরের শেষে তাকে ( ৮ শ্রেণীর অভাবগ্রস্ত লোকদের দিতে হবে)। পৃথিবীর প্রতিটি সম্পদশালী ব্যাক্তি যদি সত্যি সত্যিই এই যাকাত আদায় করে তাহলে দারিদ্রতা বলতে পৃথিবীতে কিছু থাকবে না। তখন ভিক্ষা দিতেও একজন ভিখারীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। (এই হলো ইসলামী অর্থনীতির মাত্র একটি কার্যক্রম। শুধু মাত্র এই যাকাত ব্যবস্থাটুকু কার্যকর হলে হাত--পাতার লোক খুঁজতে হবে।)
গ:) মানবীয় সমস্যায় ইসলামের সমাধানঃ
বাস্তবমুখী ইসলাম মানুষের জন্য সবোশ্রেষ্ঠ জীবনযাপন পদ্ধতি। কেননা এর শিক্ষা অকার্যকর নয় বরং মানুষের যাবতীয় সমস্যার নগদ ও বাস্তব সমাধান। স্বতন্ত্র ব্যাক্তি ও সামাজিক সমস্যা, উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামে প্রত্যক্ষ
ফলাফল অর্জন করে। ইসলাম একারণেও শ্রেষ্ঠতম জীবন পদ্ধতি যে, এটা বাস্তব সম্মত বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন ধর্ম। কোনো জাতি অথবা জাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

